Cox's Bazar

কক্সবাজার
Cox's Bazar

বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত

চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে কক্সবাজার। প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটানা বালুকাময় সৈকতের কারণে এটি বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যও এটি।

কেন যাবেন

  • বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত: যতদূর চোখ যায় শুধু বালু আর ঢেউ। পৃথিবীর খুব কম জায়গায় এত দীর্ঘ একটানা প্রাকৃতিক সৈকত আছে।
  • পাহাড় আর সমুদ্র একসাথে: মেরিন ড্রাইভ সড়কের একপাশে সবুজ পাহাড়, অন্যপাশে সমুদ্র। দেশের সবচেয়ে সুন্দর সড়কপথগুলোর একটি।
  • সব বয়সের জন্য উপযোগী: শিশুদের জন্য সৈকতে খেলা, তরুণদের জন্য প্যারাসেইলিং ও সার্ফিং, বয়স্কদের জন্য আরামদায়ক রিসোর্ট।
  • যাতায়াত সবচেয়ে সহজ: ট্রেন, বাস ও বিমান তিনভাবেই সরাসরি যাওয়া যায়।
  • সেন্টমার্টিনের প্রবেশদ্বার: সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ এখন কক্সবাজার থেকেই ছাড়ে, তাই দুটি গন্তব্য এক ট্রিপে মেলানো যায়।
  • সংস্কৃতি ও কেনাকাটা: রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, রামুর বৌদ্ধ বিহার এবং বার্মিজ মার্কেটের হস্তশিল্প।

কীভাবে যাবেন

  • ট্রেনে: ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেন চলে। আরামদায়ক এবং রাতের ট্রেনে গেলে সকালে পৌঁছানো যায়। টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তাই অনলাইনে আগেভাগে কাটুন।
  • বাসে: ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল ও কলাবাগান থেকে এসি ও নন-এসি বাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। গ্রিনলাইন, শ্যামলী, হানিফ, সৌদিয়াসহ অনেক পরিবহন চলে।
  • আকাশপথে: ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইটে প্রায় এক ঘণ্টা। সময় কম থাকলে সবচেয়ে ভালো বিকল্প।
  • চট্টগ্রাম থেকে: বাসে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা, ট্রেনেও যাওয়া যায়।
  • স্থানীয় যাতায়াত: শহরের ভেতরে ইজিবাইক ও অটোরিকশা। মেরিন ড্রাইভ, ইনানী ও হিমছড়ি যেতে সিএনজি বা জিপ রিজার্ভ করুন।
Photo: Syedhasibulhasan, CC BY-SA 4.0
Photo: Syedhasibulhasan, CC BY-SA 4.0

কোথায় থাকবেন এবং কেন

  • কলাতলী ও সুগন্ধা এলাকা: বেশিরভাগ হোটেল এখানে। সৈকত হাঁটা দূরত্বে, আশপাশে রেস্টুরেন্ট ও দোকান। প্রথমবার গেলে এবং পরিবার নিয়ে গেলে সবচেয়ে সুবিধাজনক।
  • মেরিন ড্রাইভ ও ইনানীর রিসোর্ট: শহরের ভিড় থেকে দূরে, নিরিবিলি পরিবেশ। হানিমুন বা আরামের ছুটির জন্য আদর্শ। অনেক রিসোর্টে প্রাইভেট সৈকত ও সুইমিং পুল আছে।
  • পাঁচ তারকা হোটেল: বিলাসবহুল সুবিধা, সমুদ্রমুখী রুম ও পূর্ণাঙ্গ সার্ভিস চাইলে।
  • বাজেট হোটেল ও গেস্টহাউস: শহরের ভেতরে ও লাবণী পয়েন্টের আশপাশে সাশ্রয়ী থাকার ব্যবস্থা।
  • বুকিং পরামর্শ: শীতকাল, ডিসেম্বরের ছুটি, ঈদ ও থার্টি ফার্স্ট নাইটে হোটেল ভাড়া বেড়ে যায় এবং দ্রুত ভরে যায়। আগেভাগে বুক করুন। অফ-সিজনে (বর্ষায়) অনেক হোটেলে ভালো ছাড় পাওয়া যায়।

কী খাবেন এবং কেন

  • সামুদ্রিক মাছ: রূপচাঁদা, কোরাল, লাক্ষা, লইট্টা ও টুনা সরাসরি সাগর থেকে আসে। সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতের দোকানে মাছ বেছে নিয়ে তাৎক্ষণিক ফ্রাই বা বারবিকিউ করিয়ে নিতে পারবেন।
  • চিংড়ি ও কাঁকড়া: বড় চিংড়ি ও লবস্টার এখানে তুলনামূলক সহজলভ্য।
  • শুঁটকি: কক্সবাজার শুঁটকির জন্য বিখ্যাত। নাজিরারটেক শুঁটকি মহালের পাশে বাজার থেকে মানসম্মত শুঁটকি কিনতে পারবেন। শুঁটকি ভর্তা দিয়ে ভাত অবশ্যই খেয়ে দেখবেন।
  • রাখাইন খাবার: শহরের রাখাইন রেস্টুরেন্টে তাঁদের ঐতিহ্যবাহী নুডলস ও মাছের পদ।
  • চট্টগ্রামের মেজবানি মাংস: কক্সবাজারের অনেক রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায়, আঞ্চলিক স্বাদ নিতে চাইলে চেখে দেখুন।
  • ডাব ও আচার: সৈকতের ডাবের পানি আর বার্মিজ মার্কেটের তেঁতুল ও বরইয়ের আচার।

কী কী দেখবেন

  • লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত: মূল সৈকত এলাকা, সূর্যাস্ত দেখার সেরা জায়গা।
  • মেরিন ড্রাইভ: কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পাহাড় ও সমুদ্রের মাঝ দিয়ে সড়ক।
  • হিমছড়ি: পাহাড়ের চূড়া থেকে সমুদ্রের দৃশ্য ও ঝর্ণা।
  • ইনানী সৈকত: প্রবাল পাথরে ঘেরা স্বচ্ছ পানির সৈকত।
  • রামু বৌদ্ধ বিহার: প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির ও শায়িত বুদ্ধমূর্তি।
  • মহেশখালী দ্বীপ: আদিনাথ মন্দির ও পান-চাষের জন্য পরিচিত দ্বীপ, স্পিডবোটে যেতে হয়।
  • ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক: বন্যপ্রাণী দেখার জন্য পরিবার নিয়ে ভালো জায়গা।
  • বার্মিজ মার্কেট: হস্তশিল্প, আচার ও কাপড় কেনাকাটা।

কখন যাবেন

নভেম্বর থেকে মার্চ সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আবহাওয়া আরামদায়ক, সমুদ্র শান্ত এবং এ সময় সেন্টমার্টিনও খোলা থাকে। বর্ষায় (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) সমুদ্র উত্তাল থাকে, তবে ভিড় কম ও হোটেল সস্তা। ঢেউ দেখতে ভালোবাসলে এ সময়ও যেতে পারেন।

প্রয়োজনীয় পরামর্শ

  • সাগরে নামার আগে লাল-হলুদ পতাকা ও লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলুন। ভাটার সময় সাগরে নামা বিপজ্জনক।
  • সৈকতের দোকানে মাছ কেনার আগে দাম ও ওজন নিশ্চিত হয়ে নিন।
  • ফটোগ্রাফার বা ঘোড়ায় চড়ার আগে দাম ঠিক করে নিন।
  • সানস্ক্রিন, সানগ্লাস ও হালকা সুতির পোশাক সাথে রাখুন।
  • ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তা প্রয়োজন হলে সৈকতের বুথে যোগাযোগ করুন।

More destinations

View all destinations