রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে। যাতায়াত হয় খাগড়াছড়ি হয়ে। চারপাশে পাহাড় আর পায়ের নিচে মেঘ, এই কারণেই সাজেককে বলা হয় "মেঘের রাজ্য"।
কেন যাবেন
মেঘ ছোঁয়ার অভিজ্ঞতা: বিশেষ করে বর্ষা ও শরতের ভোরে পুরো উপত্যকা মেঘে ঢেকে যায়। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘ দেখা দেশের খুব কম জায়গায় সম্ভব।
৩৬০ ডিগ্রি পাহাড়ি দৃশ্য: যতদূর চোখ যায় সারি সারি সবুজ পাহাড়।
পাহাড়ি সংস্কৃতি: লুসাই, পাংখোয়া ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ।
রোমাঞ্চকর যাত্রাপথ: খোলা জিপে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ ধরে যাওয়াটাই একটা অভিজ্ঞতা।
শহুরে ক্লান্তি থেকে মুক্তি: নেটওয়ার্ক কম, কোলাহল নেই। মন হালকা করার জন্য আদর্শ জায়গা।
বন্ধুদের দলের জন্য সেরা: একসাথে জিপ ভাড়া নিলে খরচ ভাগ হয়ে যায়, আর রাতের বারবিকিউ ও আড্ডা ট্রিপটাকে স্মরণীয় করে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি: সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল ও কলাবাগান থেকে রাতের বাসে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। শান্তি, হানিফ, সৌদিয়া, এস আলমসহ বিভিন্ন পরিবহন চলে। কিছু বাস সরাসরি দীঘিনালা পর্যন্তও যায়।
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক: খাগড়াছড়ি শহর থেকে চাঁদের গাড়ি (খোলা জিপ) বা সিএনজি রিজার্ভ করতে হয়। একটি জিপে ১০ থেকে ১২ জন বসা যায়। সাধারণত আসা-যাওয়া একসাথে রিজার্ভ করা হয়, চাইলে পথের অন্যান্য স্পট ঘোরানোর চুক্তিও করা যায়।
সেনা এসকর্ট: বাঘাইহাট থেকে নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত দিনে দুবার, সকাল ও দুপুরে) সেনাবাহিনীর এসকর্টের সাথে গাড়ি সাজেকে যায়। এসকর্টের সময় মিস করলে পরেরটির জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তাই খাগড়াছড়ি থেকে সময় হিসাব করে রওনা দিন।
চট্টগ্রাম থেকে: অক্সিজেন মোড় থেকে খাগড়াছড়ির বাসে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।
ভ্যালি ভিউ কটেজ ও রিসোর্ট: রুইলুই পাড়ায় বেশিরভাগ থাকার জায়গা। উপত্যকামুখী বারান্দাওয়ালা রুম নিন, কারণ ভোরে বিছানা থেকে উঠেই মেঘ দেখতে পাবেন। সাজেকে থাকার আসল মূল্য এটাই।
কাঠ ও বাঁশের কটেজ: পাহাড়ি স্থাপত্যের ছোঁয়া পেতে চাইলে এগুলো বেছে নিন।
কংলাক পাড়ার আশপাশে থাকা: ভোরে কংলাক পাহাড়ে সূর্যোদয় দেখতে চাইলে কাছাকাছি থাকা সুবিধাজনক।
হোমস্টে: স্থানীয় পরিবারের সাথে থাকলে তাঁদের জীবনযাত্রা ও খাবারের অভিজ্ঞতা পাবেন।
বুকিং পরামর্শ: সাপ্তাহিক ছুটি ও উৎসবে কটেজ দ্রুত ভরে যায়। কয়েক সপ্তাহ আগে বুক করুন এবং রুমে কোন দিকের ভিউ, তা নিশ্চিত হয়ে নিন।
কী খাবেন এবং কেন
ব্যাম্বু চিকেন: বাঁশের চোঙের ভেতরে মসলা মাখানো মুরগি ভরে আগুনে রান্না করা হয়। বাঁশের ঘ্রাণ মিশে যায় মাংসে, এর স্বাদ অন্য কোথাও পাবেন না। সাজেকে এলে এটি অবশ্যই চেখে দেখবেন।
রাতের বারবিকিউ: বেশিরভাগ কটেজ ও রেস্টুরেন্ট আগে থেকে অর্ডার নিয়ে বারবিকিউর আয়োজন করে। ঠান্ডা রাতে খোলা আকাশের নিচে খাওয়া সাজেক ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।
পাহাড়ি সবজি ও ভর্তা: স্থানীয়ভাবে চাষ করা সবজি, বাঁশকোড়ল ও নানা রকম ভর্তা।
পাহাড়ি ফল: কলা, পেঁপে, আনারস ও মৌসুমি ফল টাটকা ও সস্তায় পাওয়া যায়।
আগেই অর্ডার দিন: সাজেকের রেস্টুরেন্টগুলো সাধারণত আগে থেকে অর্ডার নিয়ে রান্না করে। তাই পৌঁছেই দুপুর ও রাতের খাবারের অর্ডার দিয়ে রাখুন।
কী কী দেখবেন
কংলাক পাহাড়: সাজেকের সবচেয়ে উঁচু স্থান। ভোরের সূর্যোদয় ও মেঘ দেখার সেরা জায়গা।