Chera Dwip

ছেঁড়া দ্বীপ
Chera Dwip
Photo: Shmunmun, Public domain

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ বিন্দু

সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে মূল দ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট প্রবাল দ্বীপের সমষ্টি ছেঁড়া দ্বীপ (ছেঁড়াদিয়া)। এটি বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্বদক্ষিণ বিন্দু। "ছেঁড়া" নামটি এসেছে মূল দ্বীপ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণে। ভাটার সময় অনেক অংশ সেন্টমার্টিনের সাথে যুক্ত হয়ে যায়, জোয়ারে আবার বিচ্ছিন্ন।

গুরুত্বপূর্ণ: পরিবেশ ও প্রবাল সংরক্ষণের জন্য সরকার ছেঁড়া দ্বীপকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী পর্যটকদের ছেঁড়া দ্বীপে প্রবেশ নিষিদ্ধ। এই আর্টিকেলটি তথ্যের জন্য। নিয়ম শিথিল না হওয়া পর্যন্ত ছেঁড়া দ্বীপ ভ্রমণের পরিকল্পনা বা প্যাকেজ নেবেন না, এবং যাওয়ার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করুন।

কেন এটি বিশেষ

  • দেশের সর্বদক্ষিণ প্রান্ত: বাংলাদেশের ভূখণ্ডের শেষ বিন্দু। এর পরে শুধু বঙ্গোপসাগর।
  • জীবন্ত প্রবালের আবাস: প্রবাল, শৈবাল, রঙিন মাছ, সামুদ্রিক শামুক ও ঝিনুকের সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র। দেশের প্রবালসম্পদের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ এটি।
  • সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার জায়গা: নির্জন সৈকতে বিপন্ন সামুদ্রিক কচ্ছপ ডিম পাড়তে আসে।
  • জনবসতিহীন প্রকৃতি: স্থায়ী জনবসতি নেই, কেয়াগাছ আর প্রবাল পাথরে ঘেরা একেবারে আদিম প্রাকৃতিক পরিবেশ।
  • কেন সংরক্ষণ জরুরি: অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনে প্রবাল ভেঙে যাওয়া, প্লাস্টিক দূষণ ও কচ্ছপের আবাস নষ্ট হওয়ার কারণেই প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা দ্বীপটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ।

কোথায় অবস্থিত এবং যাতায়াত

  • অবস্থান: সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে, মূল দ্বীপ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে।
  • আগে যেভাবে যাওয়া হতো: সেন্টমার্টিন থেকে ভাটার সময় হেঁটে, সাইকেলে, অথবা ট্রলার ও স্পিডবোটে।
  • বর্তমান অবস্থা: সরকারি নিয়মে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ অংশের নির্দিষ্ট সীমার পরে এবং ছেঁড়া দ্বীপে পর্যটকদের যাওয়া নিষিদ্ধ। সেন্টমার্টিনেও নির্দিষ্ট এলাকাকে সংরক্ষিত জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
Photo: Tanvir Rahat, CC BY-SA 4.0
Photo: Niaz morshed Shovon, Public domain

থাকা ও খাওয়া

  • থাকা: ছেঁড়া দ্বীপে কোনো থাকার ব্যবস্থা নেই এবং রাত্রিযাপন সম্ভব নয়। সেন্টমার্টিন ভ্রমণের মৌসুমে (নভেম্বর থেকে জানুয়ারি) সেন্টমার্টিনেই থাকতে হবে (সেন্টমার্টিন আর্টিকেল দেখুন)।
  • খাওয়া: ছেঁড়া দ্বীপে কোনো খাবারের দোকান নেই। সেন্টমার্টিনের রেস্টুরেন্টে সামুদ্রিক মাছের বারবিকিউ, ডাবের পানি ও স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়।

ভ্রমণকারীদের জন্য বিকল্প

  • সেন্টমার্টিনের প্রবাল সৈকত: অনুমোদিত এলাকার মধ্যে সেন্টমার্টিনের পশ্চিম সৈকত ও প্রবাল পাথরের সৈকতে প্রবাল ও সামুদ্রিক প্রাণী দেখার সুযোগ আছে।
  • সূর্যাস্ত ও রাতের আকাশ: সেন্টমার্টিনের পশ্চিম সৈকতে সূর্যাস্ত এবং আলোদূষণমুক্ত রাতের আকাশ।
  • নিয়ম শিথিল হলে: ভবিষ্যতে সরকার নির্দিষ্ট শর্তে ছেঁড়া দ্বীপ খুলে দিলে আমরা হালনাগাদ তথ্য ও প্যাকেজ জানাব।

প্রবাল রক্ষায় আমাদের দায়িত্ব

  • সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করবেন না, স্থানীয় নৌকাচালক নিয়ে যেতে চাইলেও না।
  • প্রবাল, শামুক, ঝিনুক বা কোনো সামুদ্রিক প্রাণী সংগ্রহ বা কেনাবেচা করবেন না।
  • প্রবাল পাথরের ওপর হাঁটবেন না, এতে জীবন্ত প্রবাল ভেঙে যায়।
  • রাতে সৈকতে আলো ও শব্দ করবেন না, কচ্ছপ ডিম পাড়তে আসে।
  • প্লাস্টিক নিয়ে যাবেন না, নিজের বর্জ্য নিজে ফিরিয়ে আনুন।

More destinations

View all destinations