Saint Martin's

সেন্টমার্টিন
Saint Martin's
Photo: Niaz morshed Shovon, Public domain

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার অন্তর্গত সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। স্থানীয়ভাবে এটি "নারিকেল জিঞ্জিরা" নামেও পরিচিত। নীল স্বচ্ছ পানি, প্রবাল পাথর আর সারি সারি নারিকেল গাছ এই দ্বীপকে দেশের অন্য সব গন্তব্য থেকে আলাদা করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ: পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সরকারি বিধিনিষেধ আছে। সাম্প্রতিক নিয়ম অনুযায়ী দ্বীপটি বছরে শুধু নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে, দিনে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক যেতে পারেন এবং ট্রাভেল পাস লাগে। নিয়মে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আছে, তাই ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা দেখে নিন।

কেন যাবেন

  • দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ: প্রবাল, শৈবাল, সামুদ্রিক কচ্ছপ ও রঙিন মাছের এমন বাস্তুতন্ত্র বাংলাদেশে আর কোথাও নেই।
  • স্বচ্ছ নীল পানি: মূল ভূখণ্ডের সৈকতের তুলনায় এখানকার পানি অনেক বেশি পরিষ্কার ও নীল।
  • দ্বীপজীবনের অভিজ্ঞতা: গাড়ির কোলাহল নেই, শহরের ব্যস্ততা নেই। দ্বীপের চারপাশে হেঁটে বা সাইকেলে ঘোরা যায়।
  • সমুদ্রযাত্রা: কক্সবাজার থেকে জাহাজে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়া নিজেই একটা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
  • সীমিত সুযোগ: বছরে মাত্র তিন মাস খোলা এবং পর্যটকসংখ্যা সীমিত, তাই এখানে যাওয়া সত্যিই বিশেষ।
  • রাতের আকাশ: আলোদূষণ কম, তাই রাতে তারাভরা আকাশ অসাধারণ দেখায়।

কীভাবে যাবেন

  • ধাপ ১, কক্সবাজার পৌঁছান: ঢাকা থেকে ট্রেন, বাস বা বিমানে কক্সবাজার (কক্সবাজার আর্টিকেল দেখুন)।
  • ধাপ ২, জাহাজে সেন্টমার্টিন: বর্তমান নিয়মে পর্যটকবাহী জাহাজ শুধু কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাট থেকে ছাড়ে। টেকনাফ রুটে পর্যটক পরিবহন বন্ধ। জাহাজ সাধারণত সকালে ছাড়ে এবং কয়েক ঘণ্টায় দ্বীপে পৌঁছায়। ফেরার জাহাজ বিকেলে দ্বীপ থেকে ছাড়ে, জোয়ার-ভাটার ওপর সময় নির্ভর করে।
  • ট্রাভেল পাস: জাহাজের টিকিট কেনার সময় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত পোর্টাল থেকে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করতে হয়। পাসে কিউআর কোড থাকে, ঘাটে চেকপোস্টে যাচাই করা হয়। পাস ছাড়া যাওয়া যায় না।
  • রাত্রিযাপনের নিয়ম: সাম্প্রতিক নিয়মে নভেম্বরে শুধু দিনে ভ্রমণ করা যায়, রাতে থাকা যায় না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকে। ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যটক যাতায়াত বন্ধ।
  • দ্বীপের ভেতরে: ভ্যান ও হেঁটে ঘোরা যায়। পুরো দ্বীপ হেঁটে ঘুরতে কয়েক ঘণ্টা লাগে।
Photo: Tanvir Rahat, CC BY-SA 4.0
Photo: Tanvir Rahat, CC BY-SA 4.0

কোথায় থাকবেন এবং কেন

  • সৈকতের পাশের রিসোর্ট ও কটেজ: রাতে থাকার অনুমতি থাকলে (ডিসেম্বর ও জানুয়ারি) সৈকতঘেঁষা কটেজ বেছে নিন। ভোরে ও সন্ধ্যায় দরজা খুললেই সমুদ্র দেখতে পাবেন।
  • পশ্চিম সৈকতের দিকে থাকা: সূর্যাস্ত দেখার জন্য পশ্চিম পাশের কটেজ বেশি উপযোগী।
  • জেটির কাছের হোটেল: দিনশেষে ফেরার জাহাজ ধরা সহজ, বয়স্ক বা শিশুসহ পরিবারের জন্য সুবিধাজনক।
  • বুকিং পরামর্শ: রাত্রিযাপনের অনুমতি সীমিত, তাই জাহাজের টিকিট, ট্রাভেল পাস ও থাকার জায়গা একসাথে নিশ্চিত করুন। দ্বীপে বিদ্যুৎ সাধারণত সৌরবিদ্যুৎ বা জেনারেটরনির্ভর, তাই রুমে কতক্ষণ বিদ্যুৎ থাকবে জেনে নিন।

কী খাবেন এবং কেন

  • সামুদ্রিক মাছের বারবিকিউ: কোরাল, রূপচাঁদা, সুন্দরী মাছ ও টুনা জেলেরা সরাসরি সাগর থেকে আনেন। দ্বীপের রেস্টুরেন্টে নিজে মাছ বেছে নিয়ে রান্না করিয়ে নিতে পারবেন।
  • লবস্টার ও কাঁকড়া: সেন্টমার্টিনে তুলনামূলক সহজলভ্য, তবে কেনার আগে দাম ঠিক করে নিন।
  • ডাবের পানি: দ্বীপজুড়ে নারিকেল গাছ, তাই ডাব এখানে সবচেয়ে টাটকা ও সহজলভ্য।
  • শুঁটকি: দ্বীপের মানুষের তৈরি শুঁটকি কিনে আনতে পারেন।
  • খাবারে পরামর্শ: খাওয়ার আগে মাছের দাম ও ওজন জেনে নিন। দ্বীপে পরিবেশের কারণে প্লাস্টিকের বোতল নিরুৎসাহিত, নিজের পানির ফ্লাস্ক সাথে রাখুন।

কী কী দেখবেন

  • পশ্চিম সৈকত: সূর্যাস্ত দেখার সেরা জায়গা।
  • প্রবাল পাথরের সৈকত: ভাটার সময় পাথরের ফাঁকে ছোট মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী দেখা যায়।
  • নারিকেল বাগান ও কেয়াবন: দ্বীপের ভেতরের সবুজ এলাকা।
  • হুমায়ূন আহমেদের "সমুদ্র বিলাস": প্রয়াত লেখকের বাড়ি, পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।
  • ছেঁড়া দ্বীপ: সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে অবস্থিত। তবে বর্তমানে সংরক্ষণের কারণে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ (আলাদা আর্টিকেল দেখুন)।

কখন যাবেন

শুধু নভেম্বর থেকে জানুয়ারি, কারণ এ সময়ই দ্বীপ পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে। রাতে থাকতে চাইলে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে যান। এ সময় সমুদ্র শান্ত থাকে, তাই জাহাজযাত্রাও নিরাপদ।

প্রয়োজনীয় পরামর্শ

  • জাতীয় পরিচয়পত্র সাথে রাখুন। ট্রাভেল পাস ও জাহাজের টিকিট প্রিন্ট বা মোবাইলে রাখুন।
  • একক ব্যবহারের প্লাস্টিক (পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল) নেওয়া নিরুৎসাহিত বা নিষিদ্ধ। নিজের পানির ফ্লাস্ক নিন।
  • প্রবাল, শামুক, ঝিনুক বা কোনো সামুদ্রিক প্রাণী সংগ্রহ বা বিক্রি নিষিদ্ধ।
  • রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দে গান বাজানো ও আতশবাজি নিষিদ্ধ, কারণ এতে সামুদ্রিক কচ্ছপ ডিম পাড়তে আসে না।
  • সৈকতে মোটরসাইকেল বা যান্ত্রিক যান চালানো নিষিদ্ধ।
  • জাহাজ থেকে গাঙচিলকে চিপস বা অন্য খাবার খাওয়াবেন না।
  • দ্বীপে এটিএম ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সীমিত, প্রয়োজনীয় নগদ টাকা সাথে নিন।

More destinations

View all destinations