Madhabpur Lake

মাধবপুর লেক
Madhabpur Lake
Photo: Md. Tanvirul Islam, GFDL

চা-বাগানের মাঝে শাপলার রাজ্য

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় মাধবপুর চা-বাগানের ভেতরে অবস্থিত মাধবপুর লেক। চারপাশে টিলার ওপর চা-বাগান, আর মাঝে আঁকাবাঁকা লেকের পানিতে বেগুনি ও সাদা শাপলার সমারোহ। শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের সবচেয়ে শান্ত ও মনোরম গন্তব্যগুলোর একটি।

কেন যাবেন

  • শাপলায় ঢাকা লেক: মৌসুমে লেকের পানি বেগুনি ও নীলাভ শাপলায় ভরে থাকে। দেশের খুব কম জায়গায় এত শাপলা একসাথে দেখা যায়।
  • চা-বাগান আর লেকের মিলন: টিলার ঢালে চা-বাগান, নিচে লেক। লেকের পাড় ধরে হাঁটা পথ ও টিলার ওপর থেকে দৃশ্য অসাধারণ।
  • নিরিবিলি পরিবেশ: শহরের কোলাহল থেকে দূরে, পাখির ডাক আর বাতাসের শব্দ ছাড়া কিছু নেই।
  • পাখি দেখা: শীতকালে লেকে অতিথি পাখি আসে, আর সারা বছর নানা দেশি পাখি।
  • সহজে পৌঁছানো যায়: শ্রীমঙ্গল থেকে কাছে, তাই লাউয়াছড়ার সাথে এক দিনেই ঘুরে আসা যায়।
  • ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ: সকালের আলো, শাপলা আর চা-বাগানের সবুজে ছবি তোলার দারুণ জায়গা।

কীভাবে যাবেন

  • ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল: কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশন থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেনে প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা, অথবা সায়েদাবাদ ও মহাখালী থেকে বাসে (শ্রীমঙ্গল আর্টিকেল দেখুন)।
  • শ্রীমঙ্গল থেকে মাধবপুর লেক: শ্রীমঙ্গল শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার। সিএনজি বা জিপ রিজার্ভ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাশ দিয়ে কমলগঞ্জ হয়ে যেতে হয়। সময় লাগে প্রায় ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা।
  • পরামর্শ: একই দিনে লাউয়াছড়া, মাধবপুর লেক ও আশপাশের মণিপুরি পল্লী ঘোরার জন্য পুরো দিনের চুক্তিতে গাড়ি রিজার্ভ করুন।
  • প্রবেশ: লেকটি চা-বাগানের ভেতরে, তাই প্রবেশপথে নির্ধারিত প্রবেশ ফি থাকতে পারে এবং বাগান কর্তৃপক্ষের নিয়ম মানতে হয়।
Photo: Shmunmun, Public domain

কোথায় থাকবেন এবং কেন

  • শ্রীমঙ্গলের টি রিসোর্ট: মাধবপুর লেকের আশপাশে থাকার ব্যবস্থা খুব সীমিত। শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানঘেরা রিসোর্টে থেকে দিনের ভ্রমণে লেক ঘুরে আসাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। এতে একই ট্রিপে শ্রীমঙ্গলের সবকিছু দেখা যায়।
  • কমলগঞ্জ এলাকার রিসোর্ট ও কটেজ: লেকের কাছাকাছি থাকতে চাইলে কমলগঞ্জের দিকে কিছু ইকো কটেজ পাওয়া যায়। ভোরে লেকে পৌঁছাতে চাইলে সুবিধাজনক।
  • শ্রীমঙ্গল শহরের হোটেল: বাজেট কম হলে শহরের সাশ্রয়ী হোটেল।

কী খাবেন এবং কেন

  • সাত রঙের চা: শ্রীমঙ্গলে ফিরে সাত রঙের চা অবশ্যই খাবেন।
  • মণিপুরি খাবার: কমলগঞ্জ এলাকায় মণিপুরি সম্প্রদায়ের বসবাস। তাঁদের ঐতিহ্যবাহী সবজি, মাছ ও ভর্তার পদ চেখে দেখার সুযোগ।
  • সিলেটি খাবার: সাতকরা দিয়ে রান্না মাংস ও শুঁটকির পদ।
  • আনারস ও লেবু: এ অঞ্চলের আনারস ও সুগন্ধি লেবু বিখ্যাত।
  • খাবার সাথে নিন: লেকের আশপাশে খাবারের দোকান সীমিত, পানি ও হালকা খাবার সাথে রাখুন। খাবারের প্যাকেট লেকে ফেলবেন না।

কী কী দেখবেন

  • মাধবপুর লেক ও শাপলা: লেকের পাড় ধরে হাঁটা পথ।
  • টিলার ওপর থেকে দৃশ্য: লেক আর চা-বাগানের সবচেয়ে সুন্দর ভিউ।
  • লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান: পথেই পড়ে।
  • মণিপুরি পল্লী: মণিপুরি তাঁতের শাড়ি, শাল ও কাপড় কেনার সুযোগ।
  • শ্রীমঙ্গলের অন্যান্য স্পট: বাইক্কা বিল, বিটিআরআই ও চা-বাগান।

কখন যাবেন

শাপলা দেখতে চাইলে বর্ষা ও শরৎকাল (জুলাই থেকে নভেম্বর) সবচেয়ে ভালো সময়। শীতকালে (ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) অতিথি পাখি দেখা যায় এবং আবহাওয়া আরামদায়ক। দিনের মধ্যে সকালের দিকে যান, তখন শাপলা পুরোপুরি ফুটে থাকে এবং আলোও ছবি তোলার জন্য ভালো।

প্রয়োজনীয় পরামর্শ

  • শাপলা তোলা বা ছেঁড়া থেকে বিরত থাকুন, এটি লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশের অংশ।
  • লেকের পানিতে নামবেন না, গভীরতা অজানা।
  • চা-বাগান ব্যক্তিগত সম্পত্তি, বাগান কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে চলুন এবং চা-গাছ নষ্ট করবেন না।
  • প্লাস্টিক বা আবর্জনা নির্ধারিত জায়গায় ফেলুন।
  • রোদ থেকে বাঁচতে টুপি, সানগ্লাস ও পানি সাথে রাখুন।
  • সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসুন, চা-বাগানের পথে রাতে আলো কম থাকে।

More destinations

View all destinations